মাগুরা প্রতিনিধি ভারতের সাতজন ও মাগুরা সহ ১০ টি জেলার ৩৭ জন খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণে মাগুরা প্রেসক্লাবে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক রেটিং দাবা প্রতিযোগিতা ২০২৬ শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) মাগুরা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন মাগুরা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইদুর রহমান।
বক্তব্য রাখেন মাগুরা জেলা দাবা খেলোয়াড় সংস্থার সভাপতি সৈয়দ নাজমুস সাদাত নদু, মাগুরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব রুবায়েত হোসেন খান।
বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় মাগুরা প্রেসক্লাব ও আকাই স্মৃতি সংসদের সহযোগিতায় এ টুর্নামেন্টের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে দাবা খেলোয়াড় সৃষ্টি করা এবং তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে রেটিং পদ্ধতির খেলায় যোগ্য করে তোলাই মূল লক্ষ্য বলে আয়োজকরা মনে করছেন।
ছবি: সংগৃহীত
অবশেষে বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে নওগাঁবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শনিবার (১৮ জুলাই) আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করছে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ এবং শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের এই নবীন বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষার নতুন যাত্রা শুরু করবে।
উদ্বোধনীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ.ন.ম. এহসানুল হক মিলন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুল খালেক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য, স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, শিক্ষাবিদ, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
সকাল ১০টায় শহরের বরুনকান্দি মোড়ে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হবে। এরপর পায়রা অবমুক্তকরণ, বেলুন ও ফেস্টুন উড়ানো, উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন, শ্রেণিকক্ষ, গ্রন্থাগার, কম্পিউটার ল্যাব ও স্টাডি সেন্টারের উদ্বোধন এবং কেক কাটার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রমের যাত্রা ঘোষণা করা হবে। পরে সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে উদ্বোধনী আলোচনা সভা।
সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি প্রধান অতিথি, উপাচার্য ও আমন্ত্রিত অতিথিরা বক্তব্য রাখবেন। অনুষ্ঠানে প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আমগাছের চারা উপহার দিয়ে বরণ করে নেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলী।
উপাচার্য ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলী জানান, প্রাথমিকভাবে আইন ও হিসাববিজ্ঞান এই দুই অনুষদে ৪০ জন করে মোট ৮০ শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠদান শুরু হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য ৯৭ একর জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও গবেষণাবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হয়েছে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক যাত্রাকে ঘিরে নওগাঁজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
ছবি: সংগৃহীত
সোনার মূর্তি ও মূল্যবান পুরোনো মুদ্রা (কয়েন) পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঠাকুরগাঁও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছয়টি সোনালি রঙের মূর্তি, পাঁচটি কয়েন ও একটি পিতলসদৃশ পুরোনো কলস জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ খোদাদাদ হোসেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন জেলার রানীশংকৈল উপজেলার লেহেম্বা ইউনিয়নের কোচল (কাঁঠালডাঙ্গী) গ্রামের বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৬) ও তার ফুফাতো বোন মোছা. সীমা বেগম (৩২)।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে দিনাজপুরের কোতোয়ালি এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল আজিম ডিবি পুলিশকে জানান, স্বর্ণের মূর্তি ও পুরোনো কয়েন বিক্রির কথা বলে একটি চক্র তার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নিয়েছে। ওই দিন বাকি টাকা পরিশোধের বিনিময়ে তাকে মূর্তি ও কয়েন দেওয়ার কথা ছিল।
এ তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল রানীশংকৈল উপজেলার কোচল গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীর আলম ও সীমা বেগমকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির বারান্দার পাশে মাটির নিচ থেকে ছয়টি সোনালি রঙের গোপাল ঠাকুরের মূর্তি, পাঁচটি সাদা রঙের কয়েন এবং প্রায় দেড় কেজি ওজনের একটি পিতলসদৃশ পুরোনো কলস উদ্ধার করা হয়। সেগুলো জব্দ করেছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খোদাদাদ হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে সোনার মূর্তি ও মূল্যবান পুরোনো মুদ্রা পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করে প্রতারণা করে আসছিলেন।’ থানার নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সীমা বেগমের বিরুদ্ধে একই ধরনের প্রতারণার অভিযোগে আগেও একটি মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে রানীশংকৈল থানায় মামলা হয়েছে। চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ছবি: সংগৃহীত
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রেঞ্জের অধীন আদমপুর বিটের কালিন্জি বসতি এলাকায় সংরক্ষিত বনভূমি দখলমুক্ত করতে বন বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন ও কমলগঞ্জ থানার সমন্বয়ে গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) যৌথ উচ্ছেদ অভিযানে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল করে কৃষিকাজের আওতায় আনা প্রায় ৫ একর সংরক্ষিত বনভূমি উদ্ধার করে।
অভিযানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিয়াজ মাহমুদ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকি এবং উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কমলগঞ্জ থানার পুলিশ সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন।
বন বিভাগ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র সংরক্ষিত বনভূমি জবরদখল করে সেখানে মাল্টা, আনারস, লেবু ও সুপারি বাগান গড়ে তোলে এবং বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ চালিয়ে আসছিল। যৌথ অভিযানে এসব অবৈধ চাষাবাদ সম্পূর্ণরূপে উচ্ছেদ করা হয় এবং দখলকৃত বনভূমি পুনরুদ্ধার করা হয়।
অভিযান চলাকালে অবৈধভাবে নির্মিত ২টি বাঁশ ও পলিথিনের শেড এবং ১টি ওয়াচার শেড ভেঙে ফেলা হয়। পাশাপাশি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের একটি প্রাকৃতিক জলাশয়ে বাঁধ দিয়ে তৈরি করা অবৈধ পুকুরের পাড় কেটে জলাশলের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ পুনঃস্থাপন করা হয়, যা বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
বন বিভাগ জানায়, সংরক্ষিত বনভূমি অবৈধ দখলমুক্ত করে বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ, বন্য প্রাণীর আবাসস্থল ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে। বনভূমি পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে নতুন করে কেউ অবৈধ দখল করতে না পারে, সে লক্ষ্যে নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা হবে।
রাজকান্দি রেঞ্জ কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) প্রীতম বড়ুয়া বলেন, ‘অভিযানে উদ্ধার হওয়া বনভূমি পুনরায় বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বন আইন অনুযায়ী পি.ও.আর. (POR) বন মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’ বনভূমি দখল ও ধ্বংসের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে এ ধরনের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
এ ছাড়াও তিনি বলেন, ‘দখলমুক্ত স্থানে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি’ বৃক্ষরোপণের আওতায় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের মাধ্যমে বনায়ন সৃজন করা হবে।’
ছবি: সংগৃহীত
মাদারীপুরের কালিকিনি উপজেলার শিকারমঙ্গল রাশদিয়া আলীম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে কৃষককার্ড বিতরণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উক্ত কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কালকিনি-মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহগণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন এমপি।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালকিনি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক (প্রস্তাবিত) মো. মাহাবুব মুনসীসহ এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সুবিধাভোগী কৃষক ও গণমাধ্যমকর্মী। এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন মাদ্রসাটির প্রিন্সিপালসহ গভর্নিং বডির অন্যান্য সসদ্য ও কালকিনি উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
এ সময় প্রধান অতিথি এমপি খোকন তালুকদার বলেন, ‘কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটলেই বাংলাদেশ হাসে, বাংলাদেশের অর্থনীতি সচল হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক মাসের মাথায় দেশের চালিকাশক্তি কৃষকদের মাঝে কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু করেছেন এবং তারই ধারাবাহিকতায় আজ আপনাদের মাঝে আমরা তা পৌঁছে দিতে পারছি, এর সুবিধা আপনারা ভোগ করবেন এবং এর মাধ্যমে বিএনপি ও আমাদের সরকার নির্বাচনি ওয়াদা পূরণ করছে, পর্যায়ক্রমে দেশের সকল কৃষক এই কার্ড পাবেন।’
এ সময় তিনি উপস্থিত কৃষকদের সরকারি আরও অন্যান্য সুবিধাদি পর্যায়ক্রমে পৌঁছানোর আশ্বাস দিয়ে কৃষক কার্ডের যাতে অপব্যবহার না হয় সেদিকে সজাগ থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করে দেন।
ছবি: সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রতিবেশীর পোষা কুকুরের ফেলে দেওয়া বিস্কুট খাওয়ার পর জলাতঙ্কে (রেবিস) আক্রান্ত হয়ে রবিউল মিয়া (৪) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় শিশুটির মা রুনা বেগমও জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি বর্তমানে ঢাকার মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত রবিউল ভৈরব পৌরসভার কালিপুর দক্ষিণ পাড়া এলাকার বাসিন্দা। সে ওই এলাকার মিজান মিয়ার ছেলে।
জানা যায়, গত ২৮ জুন বাড়ির সামনে খেলছিল রবিউল। এ সময় প্রতিবেশী মুসা মিয়ার স্ত্রী তাদের পোষা কুকুরকে বিস্কুট খেতে দেন। কুকুরটি বিস্কুটের একটি অংশ খেয়ে বাকিটা ফেলে রেখে যায়। পরে শিশুটি অজ্ঞতাবশত ওই ফেলে দেওয়া বিস্কুটটি কুড়িয়ে খেয়ে ফেলে। এর কিছুদিন পর থেকেই তার শরীরে অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দেয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রথমে রবিউলকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন না থাকায় তাকে আশুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয় এবং সেখানে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। কিন্তু গত বুধবার তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে এবং পরে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথে নরসিংদী এলাকায় শিশুটি মারা যায়। এদিকে শিশুটির মা রুনা বেগমের মধ্যেও জলাতঙ্কের উপসর্গ দেখা দিলে তাকে দ্রুত ঢাকার মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শিশুটির বাবা মিজান মিয়ার অভিযোগ, প্রতিবেশীরা নিয়মিত আমাদের বাড়ির সামনের খোলা জায়গায় তাদের পোষা কুকুরকে খাবার দিত। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার নিষেধ করলেও তারা গুরুত্ব দেয়নি। তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণেই আজ আমার শিশুসন্তানকে হারাতে হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
ছবি: সংগৃহীত
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার প্রায় ৭ দিন পর চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে। তবে বন্যার পানি সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হয়ে উঠছে দুর্যোগের ভয়াল ক্ষতচিহ্ন। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় সড়ক, কালভার্ট, স্লুইস গেট, কৃষিজমি, মাছের খামার ও বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দীর্ঘদিন পানিবন্দি থাকা মানুষ এখন ঘরবাড়ি পরিষ্কার, কাদা সরানো এবং নতুন করে জীবিকা গড়ে তোলার কঠিন সংগ্রামে নেমেছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান শুরু করতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরসভার উত্তর রামপুর, হাঙরমুখ, গাটিয়াডেঙ্গা ও সামিয়ারপাড়া এলাকায় ডলু নদীর ভয়াবহ ভাঙনে কয়েকশ মিটার সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে এসব এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। নলুয়া-চৌধুরীহাট সড়কের একটি অংশও ভেঙে গেছে।
অন্যদিকে সাঙ্গু নদীর ভাঙনে বাজালিয়া ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া এলাকায় কয়েকটি বসতঘর, একটি মসজিদ এবং সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছদাহা-দস্তিদারহাট সড়কের প্রায় ২০০ মিটার অংশ বন্যার তোড়ে বিলীন হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা ফকিরহাটের উত্তর পাশে সড়কের ওপর অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করে চলাচল করছেন।
সামিয়ারপাড়ার বাসিন্দা এনামুল হক বলেন, ‘পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে ডলু নদীর পাশের সামিয়ারপাড়ার প্রধান সড়কটি একাধিক স্থানে ভেঙে গেছে। এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া বন্যার পানিতে একাধিক বসতবাড়ি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।’
উপজেলা কৃষি অফিসের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ৬০ হেক্টর আমনের বীজতলা, ৯৯৫ হেক্টর আউশ ধান, ৭৪০ হেক্টর শাকসবজি, ৮ হেক্টর পান, ১৬ হেক্টর পেঁপে বাগান এবং ৮০ হেক্টর অন্যান্য ফসলসহ মোট এক হাজার ৮৯৯ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ২০ হাজারেরও বেশি কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কৃষি খাতে প্রাথমিকভাবে ৫০-৬০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এক হাজার ৮৯৯ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
অবকাঠামো খাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে। উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জানিয়েছে, সাতকানিয়ায় মোট ৪০টি সড়কের ২৫ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাঁচটি। ছয়টি সড়ক পুরোপুরি মাঝখান থেকে ভেঙে গিয়ে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে জানান, এখনও পুরোপুরি জরিপ শেষ হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের সংখ্যা আরও বাড়বে। এখন পর্যন্ত আনুমানিক ১৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
মৎস্য খাতও বন্যার বড় ধাক্কা সামলাচ্ছে। উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ৫৭৫ হেক্টর আয়তনের তিন হাজার ৫৫০টি পুকুর ও দিঘি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানিতে ৮০৬ মেট্রিক টন পিন ফিস, প্রায় ১০ লাখ মাছের পোনা এবং বিপুল পরিমাণ চাষের মাছ ভেসে গেছে। এতে অবকাঠামো, মাছ ও পোনাসহ প্রায় ৩৭ কোটি ২৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ঢেমশা ইউনিয়নের মাছচাষি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘মাহালিয়ায় আমার প্রজেক্টের সব মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। সরকারি সহায়তা না পেলে আবারও মাছ চাষ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়বে।’
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) তানবীর আহসান বলেন, ‘এটি প্রাথমিক হিসাব। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে পুনরায় মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এরপর চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহায়তার জন্য সুপারিশ করা হবে।’
বন্যার পানি ধীরে ধীরে সরে গেলেও সাতকানিয়ার মানুষের দুর্ভোগ এখনও কাটেনি। বিধ্বস্ত অবকাঠামো, কৃষি ও মৎস্য খাতের বিপুল ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি হাজারো পরিবার এখন ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে নেমেছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অবকাঠামো সংস্কার এবং কৃষক ও মৎস্যচাষিদের জন্য জরুরি সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা না হলে এ দুর্যোগের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব থেকে উত্তরণ কঠিন হয়ে পড়বে।
এদিকে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন মানবিক সংগঠনের সদস্যরা ত্রাণসামগ্রী নিয়ে সাতকানিয়ায় ছুটে আসছেন। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতার কারণে দুর্গত মানুষের চাহিদার তুলনায় সহায়তা আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বন্যাকবলিত মানুষের খোঁজখবর নিতে সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এবং ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুসহ সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তারা দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন এবং ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেন।
ছবি: সংগৃহীত
আমার বুকের ধন, আমার চোখের মনি, কোথায় চলে গেলিরে তুই! আমার বুকে আর কোনো দিন ফিরে আসবে না আমার সোনার ছেলে। রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত ডুবুরি সাদিক হোসেন শুভর পদক বুকে নিয়ে এভাবেই আহাজারি করছেন সাদিকের মা।
সাদিকের মা কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আমার বুকের ধন সাদিক ওর বাবার কাছে ফোন করে ৫ হাজার টাকা চেয়েছিল। সাদিকের সাথে আমার তিন দিন আগে কথা হয়েছিল। সামনে সপ্তাহে বাড়িতে আসবে বলে জানিয়েছিল। আমার সোনার ছেলে আর মা বলে আমাকে ডাকবে না, আমি কি নিয়ে বেঁচে থাকব। আমার ছেলে এভাবে চলে যাবে আমি তা মেনে নিতে পারছি না। আমি আমার ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’
নিহত সাদিক রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড কুমড়াকান্দি গ্রামের আশরাফ আলী শেখের ছেলে। দুই ভাই, দুই বোনের মধ্যে সাদিক মেজো। ডুবুরি হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে ফায়ার সার্ভিস পদক পাওয়া সাদিক চমৎকার ফুটবলও খেলতেন।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে নারায়ণগঞ্জ কেরোসিন ঘাট এলাকা থেকে নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা সাদিকের মরদেহ উদ্ধার করেন। এর আগে বেলা ১১টার দিকে নগরীর নিতাইগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর ফায়ার ঘাট এলাকায় পন্টুনের সামনে কচুরিপানা পরিষ্কার করতে গিয়ে স্পিডবোট থেকে পড়ে নিখোঁজ হন সাদিক। নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের একজন প্রশিক্ষিত ডুবুরি ছিলেন তিনি। পানিতে ডুবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধার করাই ছিল তার কাজ। তিনি সেরা ডুবুরি হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে ফায়ার সার্ভিস পদক পেয়েছিলেন।
গোয়ালন্দ ফুটবল একাডেমির চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘সাদিক চমৎকার ফুটবল খেলতেন। গোয়ালন্দ ফুটবল একাডেমিসহ গোয়ালন্দের অনেক ফুটবল দলের গোলরক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। সাদিক একজন নম্র-ভদ্র ও ভালো ছেলে। সাদিকের অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’
ঢাকা ফায়ার সার্ভিসের প্রধান কার্যালয়ে জুম্মার নামাজ শেষে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তার মরদেহ বাড়িতে এনে সন্ধ্যার পর জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুতে রহস্য লুকিয়ে আছে। প্রকৃতভাবে তদন্ত করে বিষয়টি পরিষ্কার করতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
মন্তব্য